অজানা বা পরিবর্তনশীল সংখ্যা বোঝাতে ব্যবহৃত অক্ষরকে চলক বলে।
উদাহরণ
প্রতি কলমের দাম p টাকা। ৪টি কলম ও ১০ টাকার খামের মোট দাম লেখো।
৪টি কলমের দাম ৪ × p = ৪p।
খামের দাম ১০ টাকা যোগ করি।
মোট দাম (৪p + ১০) টাকা।
কেন?
প্রতি কলম p টাকা হলে চারটির দাম p + p + p + p = ৪p।
৯x রাশি দ্বারা কী বোঝায়?
সমাধান দেখিসমাধান
৯ × x।
লেখায় পাশাপাশি চলক ও সংখ্যা থাকলে গুণ বোঝায়; বন্ধনী ও ভগ্নাংশের কাজের ক্রম বজায় রাখি।
উত্তর: x-এর ৯ গুণ।
আগে খাতায় হিসাব করো, তারপর উত্তর বেছে নাও। ২ পর্বে ৯টি প্রশ্ন দিয়ে ধারণাগুলো যাচাই করবে।
অগ্রগতি দেখা হচ্ছে…
উত্তর বেছে নিলে সঙ্গে সঙ্গে যাচাই হবে। সব উত্তর সঠিক করে “মোট ফল দেখি ও সংরক্ষণ করি” চাপলে সেই পর্ব সম্পন্ন হিসেবে গণনা হবে।
নিজে চেষ্টা করো — 4টি প্রশ্ন
গোল বোতামে উত্তর বেছে নাও। সঙ্গে সঙ্গে যাচাই হবে—সঠিক হলে সবুজ টিক, ভুল হলে ব্যাখ্যা পাবে।
সাইন ইন করা থাকলে মোট ফল অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত হবে।
নিজে চেষ্টা করো — 5টি প্রশ্ন
গোল বোতামে উত্তর বেছে নাও। সঙ্গে সঙ্গে যাচাই হবে—সঠিক হলে সবুজ টিক, ভুল হলে ব্যাখ্যা পাবে।
সাইন ইন করা থাকলে মোট ফল অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত হবে।
বই বন্ধ করে মনে করি
আগে উত্তর বলো বা লেখো, তারপর নিয়মটি খুলে মিলিয়ে নাও।
১. অক্ষর দিয়ে সংখ্যা প্রকাশের সুবিধা কী?
একটি অক্ষর দিয়ে অজানা বা পরিবর্তনশীল সংখ্যা বোঝানো যায়। x-কে একটি খাতার দাম ধরলে ৩টি খাতার দাম ৩x। একই সমস্যায় একই অক্ষর একই রাশি বোঝাবে। বীজগণিতে পাশাপাশি লেখা ৩x মানে ৩ × x; এখানে x গুণচিহ্ন নয়।
২. −x-এর সংখ্যাসহগ কত?
যোগ বা বিয়োগচিহ্ন দিয়ে রাশির পদগুলো আলাদা হয়। ৪x − ৩y + ৭-এর পদ ৪x, −৩y এবং ৭। সংখ্যাসূচক গুণক হলো সংখ্যাসহগ। −৩y-এর সংখ্যাসহগ −৩। শুধু x-এর সহগ ১, আর −x-এর সহগ −১। অক্ষরহীন নির্দিষ্ট পদ ধ্রুবক।
৩. গুণচিহ্ন না যোগ-বিয়োগচিহ্ন দেখে পদ আলাদা করি?
একটি পদ হলে একপদী, দুটি হলে দ্বিপদী, তিনটি হলে ত্রিপদী রাশি। একাধিক পদের রাশিকে বহুপদী বলা হয়। পদের ভেতরের গুণ বা ঘাতকে আলাদা পদ গোনা হয় না। ৩ab একটি পদ, a + b দুটি পদ।
৪. রাশির মান বের করতে প্রথম কাজ কী?
চলকের নির্দিষ্ট মান জানা থাকলে প্রতিটি জায়গায় সেই মান বসিয়ে রাশির মান বের করি। ঋণাত্মক মান বসানোর সময় বন্ধনী ব্যবহার করলে চিহ্ন পরিষ্কার থাকে। আগে ঘাত, তারপর গুণ-ভাগ, শেষে যোগ-বিয়োগ করি।
৫. সূচক কী গুনে রাখে?
একই রাশি বারবার গুণকে ঘাত দিয়ে সংক্ষেপে লিখি। a × a × a = a³; a ভিত্তি এবং ৩ সূচক। সূচক বলে ভিত্তিটি কতবার গুণে এসেছে। এই পাঠে ধনাত্মক পূর্ণসংখ্যার সূচক ব্যবহার করছি।
৬. একই ভিত্তির গুণে সূচক যোগ হয় কেন?
একই ভিত্তির দুটি ঘাত গুণ করলে মোট যতবার ভিত্তিটি আছে তা গুনি। তাই aᵐ × aⁿ = aᵐ⁺ⁿ, এখানে m ও n ধনাত্মক পূর্ণসংখ্যা। একপদী রাশির গুণে সংখ্যাসহগগুলো গুণ করি এবং একই অক্ষরের সূচক যোগ করি। ভিন্ন অক্ষর আলাদা থাকে।
৭. সদৃশ পদ বাছাইয়ে কী কী মিলতে হয়?
যেসব পদের অক্ষর ও তাদের সূচক একই, সেগুলো সদৃশ পদ। সহগ আলাদা হতে পারে: ৩x² ও −৫x² সদৃশ। x ও x² বিসদৃশ। ab ও ba একই গুণফল বলে সদৃশ অক্ষরাংশ। সদৃশ পদ একসঙ্গে করে সংক্ষেপ করা যায়।
৮. যোগে অক্ষরাংশ বদলায়, নাকি সহগ বদলায়?
সদৃশ পদের সহগ যোগ করে একই অক্ষরাংশ রাখি। বিসদৃশ পদ যোগচিহ্নসহ আলাদা থাকে। কয়েকটি রাশি যোগে প্রতিটির সব পদ লিখে সদৃশ দল করি। কোনো অক্ষরের পদ না থাকলে সেটির সহগ শূন্য ভাবা যায়।
৯. সম্পূর্ণ রাশি বিয়োগের সময় কোন কোন চিহ্ন বদলাই?
একটি সম্পূর্ণ রাশি বিয়োগ করতে তার প্রতিটি পদের চিহ্ন বদলে যোগ করি। বন্ধনীর আগে বিয়োগ থাকলে ভেতরের সব পদের ওপর সেটি কাজ করে। ফল যাচাই করতে বিয়োগফলের সঙ্গে বিয়োজক যোগ করে মূল রাশি ফেরত পাই কি না দেখি। নির্দিষ্ট মান বসিয়েও ভুল ধরা যায়, তবে একটি মান মেলা সব মানের প্রমাণ নয়।
রিভিশনের ছোট পরিকল্পনা
আজ: ভুল হওয়া প্রশ্নের নিয়ম ও উদাহরণ পড়ো। আগামীকাল: একই ধরনের অঙ্ক খাতায় না দেখে করো। তিন দিন পরে: এই অধ্যায়ের মূল অনুশীলনী থেকে আলাদা ধরনের তিনটি সমস্যা সমাধান করে নিজের ধাপ ব্যাখ্যা করো।